
প্রতিদিনের মতোই সূর্য উঠেছে আজও। তবে আজকের সূর্যোদয় অন্যদিনের চেয়ে একটু ভিন্ন বার্তা নিয়ে এসেছে। আজকের সূর্যোদয় বাঙালির প্রাণে এনেছে পুরাতন, জরা আর জীর্ণকে বিদায় জানিয়ে শুভ, সুন্দর ও মঙ্গলকে বরণ করার আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা।
সে আশা থেকেই ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো' গেয়ে নতুন সূর্যোদয়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাঙালি। মেতেছে প্রাণের উৎসবে। রাঙিয়েছে চারপাশ।
আজ পয়লা বৈশাখ। বাংলা ১৪১৭ সনের প্রথম দিন। প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাঙালি মেতেছে প্রাণের উৎসবে। সকালে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে পয়লা বৈশাখ বরণের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর চারুকলা থেকে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। অমঙ্গলকে পেছনে ফেলে মঙ্গলের যাত্রায় শামিল হয়েছিল শত শত মানুষ।
সম্রাট আকবরের যুগে হালখাতা, কৃষি আর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে যে বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল, কালের পরিক্রমায় তা-ই এখন পরিণত হয়েছে বাঙালির অন্যতম প্রাণের উৎসবে। এই দিন ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশের মানুষের বাঙালি পরিচয়টিই মূর্ত হয়ে ওঠে, সবাই মেতে ওঠে উৎসব
ে।পয়লা বৈশাখ আজ
আমাদের নববর্ষ
সমস্ত দেশের
সব বাঙালির প্রাণের উৎসব
আয় তোরা আয় ছুটে আয় সব
আজ আমরা কেউ ঘুমাব না
জেগে রব সারা রাত
আজ সারা দিন কোনো কাজ নয়
আজ শুধু স্বপ্ন দেখা
বয়সের সব ভার ঝেড়ে ফেলে
আজ আমাদের ছেলেবেলা ফিরে পাওয়া
মেলা আর খেলা
হাতে হাত ধরে
হাসি আর হুল্লোড়ে
মাতামাতি সারা বেলা
গলায় মিলিয়ে গলা
আজ শুধু নাচে গানে
প্রাণে প্রাণ বাঁধা
আজ নববর্ষ পয়লা বৈশাখ
কী হর্ষ কী হর্ষ
আয় তোরা আয় ছুটে আয় সব
আজ আমাদের প্রাণের উৎসব।


