লন্ডন থেকে ফিরে শাহীন চৌধুরী, ১৫ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্টুডেন্ট ভিসায় প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি ছাত্র যুক্তরাজ্যে যায়। আদম ব্যবসায়ীদের প্রতারণার শিকার এই ছাত্র নামধারীদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগই অছাত্র। যুক্তরাজ্যে গেলে ভাল টাকা আয় করা যাবে, ভবিষ্যতে সেদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রলোভনে মাথা প্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার কিছুদিনের জন্য স্টুডেন্ট ভিসাই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এরমধ্যে যারা সেদেশে গিয়ে পৌঁছে তারা মারত্মক বিপাকে পড়ে। টাকা-পয়সার অভাবে কয়েক হাজার ছাত্র মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়।
সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ১ লাখ ছাত্রের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ছাত্র গত এক বছরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে। ১০ হাজার ছাত্র প্রকৃতপক্ষেই ছাত্র, ফলে তারা কষ্ট করে হলেও পড়াশুনা শেষ করে আসার পক্ষপাতি। বাকি ৭০ হাজার ছাত্র এখন দেশে ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে এসব ছাত্রের কাছে দেশে ফিরে আসার মতো বিমান ভাড়াও নেই। আবার ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করে সেদেশে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এদের অনেকেই রয়েছে যারা আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর কাছ থেকে ঋণ করে এমনকি জমি বিক্রি করে যুক্তরাজ্যে গেছে। তাই তারা কিভাবে এখানে ফিরে আসবে বা দেশে এসেই কি করবে? এসব প্রশ্নও তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু টাকা আয় করারও উপায় নেই। কারণ স্টুডেন্ট ভিসায় যারা যুক্তরাজ্যে যায় তাদের সপ্তায় ৮ ঘণ্টার বেশী কাজ করার সুযোগ নেই। আর ৮ ঘণ্টার কাজ করে যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে ঘরভাড়া হাত খরচের টাকাই হয় না। সুতরাং টাকা জমা করা কারো পক্ষে সম্ভবপর হয় না। আর টাকা না হলে দেশে ফিরবে কিভাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে এ ধরনের একাধিক বাংলাদেশি ছাত্রের সঙ্গে এই প্রতিনিধির কথা হয়। আব্দুল আহাদ নামে এক ছাত্র জানায়, তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়। প্রায় এক বছর হলো সে লন্ডনে এসেছে। এখানে আসতে তার বিমান ভাড়াসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিভাবে এই টাকা উঠবে তা সে জানে না। আক্ষেপ করে সে বলে- কি আর বলব ভাই আমাদের খবর কেউই রাখে না। অন্যদের বক্তব্যও ছিল একইরকম।
ইমিগ্রেশন ফোর ইউ-এর অন্যতম কর্ণধার ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিন শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, স্টুডেন্ট ভিসা এদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশের মানুষ না বুঝেই এখানে আসছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এখানে কাজের সুযোগ যেমন কমে গেছে তেমনি সরকারও নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে স্টুডেন্ট ভিসায় এসে কাজ করার সুযোগ আর নেই। তিনি এ ব্যাপারে দেশবাসীর আরো সচেতনতা কামনা করেন।
Download Page